সংবাদ শিরোনামঃ
উপকূলের গাবুরাতে ফেইথ ইন এ্যাকশনের বিনামূল্যে এক হাজার লিটারের ৬০টি পানির ট্যাংক বিতরণ দেবহাটায় ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ এর উদ্যোগে এতিম শিশুদের মাঝে খাদ্য,শিক্ষা ও খেলাধুলা সামগ্রী প্রদান বুড়িগোয়ালিনীতে জমি নিয়ে বিরোধ: দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারধরের অভিযোগ উপকূলের মায়েদের জীবন চলে নোনা জলে: মাতৃত্বের আলোয় দুশ্চিন্তার ছায়া গাবুরায় ২০০ জন নারী-পুরুষকে লবণ সহনশীল বীজ, জৈব সার, জিও ব্যাগ ও পানির ঝাঁঝরি বিতরণ  শ্যামনগরের ডন হত্যা মামলাসহ দুই ডজন মামলার আসামি রবিউল জোয়ারদার কে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব দেবহাটা থেকে আটির আমের আড়ালে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন শহরে চলে যাচ্ছে গোবিন্দভোগ আম  শ্যামনগর নীলডুমুরে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদ্বারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে জ্বালানী তেল বন্টনে স্বচ্ছতায় এগিয়ে গাবুরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, প্রশংসায় ৩ ইউনিয়নের জনগণ শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোলকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)–২০২৬ অনুষ্ঠিত
উপকূলের মায়েদের জীবন চলে নোনা জলে: মাতৃত্বের আলোয় দুশ্চিন্তার ছায়া

উপকূলের মায়েদের জীবন চলে নোনা জলে: মাতৃত্বের আলোয় দুশ্চিন্তার ছায়া

এম এ হালিমঃসুন্দরবনের কোলঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম দাতিনাখালী। তিন পাশে নদী, কাদামাটি আর প্রতিদিনের সংগ্রামে ঘেরা এই জনপদে জীবন মানেই টিকে থাকার লড়াই। সেই লড়াইয়েরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি মুন্ডা দম্পতির জীবন।
গর্ভবতী মুন্ডার চোখে এখন একসঙ্গে দুই রকমের স্বপ্ন—একদিকে মাতৃত্বের অপার আনন্দ, অন্যদিকে অনিশ্চয়তার গভীর ছায়া। চিকিৎসকের ভাষ্যমতে, আর মাত্র এক মাস পনেরো দিনের মধ্যেই তার কোলজুড়ে আসবে নতুন অতিথি। কিন্তু এই আনন্দঘন মুহূর্তেই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বড় এক সংকট—তার শরীরে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা। সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দিতে প্রয়োজন তিন ব্যাগ রক্তের, যার মধ্যে এক ব্যাগ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। বাকি দুই ব্যাগের খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।
তবুও জীবন থেমে নেই। গর্ভে সন্তান নিয়ে, শারীরিক দুর্বলতা আর অজানা শঙ্কাকে উপেক্ষা করে প্রতিদিন নেমে পড়েন নদীতে। কাদামাখা তীর, স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে হাতে জাল নিয়ে তিনি ধরেন বাগদার পোনা। প্রতিটি পোনা যেন তার সন্তানের বেঁচে থাকার একেকটি আশার আলো।
স্বামী মুন্ডা একজন সাধারণ জেলে। ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি নদীতে পাড়ি জমান। দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর যে অল্প আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলে। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয় যেন আরও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও তারা হার মানতে নারাজ।
অভাব-অনটনের মাঝেও তাদের চোখে আছে স্বপ্ন—তাদের সন্তানরা একদিন এই দারিদ্র্যের চক্র ভেঙে নতুন ভবিষ্যৎ গড়বে। সেই আশাতেই প্রতিদিন নতুন করে সংগ্রাম শুরু করেন তারা।
এই গল্প শুধু এক মায়ের নয়, এটি উপকূলীয় জনপদের হাজারো পরিবারের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে লড়ে গিয়ে মানুষ বাঁচতে শেখে, স্বপ্ন দেখতে শেখে। মানবিক সহায়তা পেলে হয়তো মুন্ডা পরিবারের এই সংগ্রাম কিছুটা হলেও সহজ হতে পারে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *